উত্তেজনা কমিয়ে আনার অব্যাহত প্রচেষ্টার মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ওয়াং ই’র সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। এ সময় তারা আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয় এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে কথা বলেছেন। আলোচনা আন্তরিক ও গঠনমুলক ছিল বলে জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে এই বৈঠক হয়। এ খবর দিয়ে অনলাইন সিএনএন বলছে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মিটিংয়ের এক ফাঁকে তাদের মধ্যে এই বৈঠক হয়। এর আগে এই ব্লিঙ্কেন ও চীনা পক্ষের মধ্যে এক মাসেরও কম সময় আগে বেইজিংয়ে বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গাং-এর স্থলে কূটনীতিকদের এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ওয়াং ই। স্বাস্থ্যগত কারণে সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গাং।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘ সময়ে তীব্র বিরোধিতার পর কয়েক মাসে বিশ্বের এই দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে জাকার্তা বৈঠক থেকে যুগান্তকারী কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, এমন কোনো উদ্দেশ্যও ছিল না এ বৈঠক নিয়ে।
এর পরিবর্তে বেইজিংয়ে এর আগে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছিল, তারই ফলোআপ করা হয়েছে প্রায় দেড় ঘন্টার এই বৈঠকে। তারা বেইজিংয়ে যেখান থেকে কথা শেষ করেছিলেন, সেখান থেকে পরবর্তী পর্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে পরবর্তী পর্যায়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাট মিলার বিবৃতিতে বলেছেন, মতপার্থক্যের জায়গা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন ব্লিঙ্কেন ও ওয়াং। ব্লিঙ্কেন এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যেসব বিষয়ে উদ্বেগ আছে তা সরাসরি উত্থাপন করেছেন। ব্লিঙ্কেন তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ওয়াং ই’কে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অবাধ, উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এবং আন্তর্জাতিক শৃংখলা ভিত্তিক আইনের দিকে অগ্রসর হবে।
ওদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লিঙ্কেনকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সঠিক পথে রাখার জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেয়ার গুরুত্বের কথা বলেছেন ওয়াং ই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।


