মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই (রাঙামাটি): পুরাতন বছরের জরাজীর্ণতা, গ্লানি ধূয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করছে সাংগ্রাই জল উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিবল। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটানোর মাধ্যমে পুরাতন বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি, বেদনাকে ধুয়ে-মুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় এই উৎসবের মাধ্যমে। অনুষ্ঠান ঘিরে মাতোয়ারা তরুন-তরুনীরা।
কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম ইউনিয়নের চিংম্রং (চিৎমরম) বৌদ্ধ বিহার মাঠে সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই জল উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি।
উদ্বোধনকালে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, এটি মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে। এদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।
সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে এবং বেতার শিল্পী সানুচিং মারমা ও সাচিং উ মারমার সঞ্চালনায় এ সময় সরকারি-বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে।
জলকেলির পাশাপাশি মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে আগত অতিথিদের মুগ্ধ করে রাখেন। এদিন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার পাশাপাশি সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাংগ্রাই জল উৎসবে অংশ নিতে আসা মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা বলেন, আজ আমরা সাংগ্রাই উৎসবে এসেছি জল ছিটাতে। পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব।
১৫ এপ্রিল মূল সাংগ্রাই জল উৎসব হলেও গত ১৩ এপ্রিল হতে বিহার প্রাঙ্গণে বসেছে বৈশাখী মেলা। ব্যবসায়ীরা নানা প্রকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠে। এছাড়া নববর্ষকে ঘিরে বিহারে দায়ক-দায়িকারা বৌদ্ধ পূজা, বৌদ্ধ মূর্তিকে স্নান, বয়স্কদের স্নান করানোসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।


