শফিউল আলম, রাউজানঃ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুম শুরু হলেও থামছে না অবৈধ মাছ শিকার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হলেও অসাধু জেলেদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতি বছর চৈত্র থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) ডিম ছাড়ে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে থেকে জুন মাসের মধ্যে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের পর নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এদিকে ডিম সংগ্রহকারীরা ইতোমধ্যে নদীর তীরে মাটির কুয়া তৈরি করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাউজান ও হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।
রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন ফাহিম জানান, মা মাছের প্রজনন রক্ষায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৩০৬ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট ও ভাসা জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়। অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৯ জনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কালুরঘাট থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এখনও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হালদায় অভিযান পরিচালনায় বর্তমানে মাত্র একটি বোট থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আরও দুটি বোট সংযোজন করা হলে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে কার্যকর অভিযান চালাতে পারবে।
এদিকে হালদা প্রকল্পের আওতায় ৬টি হ্যাচারি সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির কাজ শেষ হলেও কিছু হ্যাচারির কাজ এখনো শুরু হয়নি।
প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও হালদা নদীতে অবৈধ মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় মা মাছের প্রজনন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চাইলে আমি এটাকে আরও ছোট (১ প্যারার নিউজ) বা ফেসবুক পোস্ট/শিরোনাম আরও আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিতে পারি।


