কক্সবাজার প্রতিনিধি, প্রিয় চট্টগ্রাম : নববর্ষ বরণ উপলক্ষে কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী উৎসব জলকেলি বা সাংগ্রাইন উৎসব শুরু হয়েছে। শুক্রবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ১৩৮৮ রাখাইন বর্ষের সূচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে পুরনো ১৩৮৭ বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় রাখাইন সম্প্রদায়।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বৃদ্ধরা নেচে-গেয়ে একে অপরের শরীরে জল ছিটিয়ে আনন্দ উদযাপন করছেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে দলবদ্ধভাবে নাচ ও গান পরিবেশন করে বিভিন্ন প্যান্ডেল পরিদর্শন করছেন তারা।
আয়োজকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ১৩৮৭ রাখাইন বছরের সমাপ্তি ঘটে। এরপর শুক্রবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরের সূচনা হয় এবং জলকেলি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যা আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে।
কক্সবাজার শহরের পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, ক্যাং পাড়া, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চাউল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, রামু, চৌফলদন্ডীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক প্যান্ডেলে চলছে এই উৎসব।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংছেন হ্লা রাখাইন বলেন, উৎসব উপলক্ষে সকালে রাখাইন পল্লীগুলো থেকে শোভাযাত্রা সহকারে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বৃদ্ধরা বৌদ্ধ বিহারে যান। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তারা বাদ্যযন্ত্রসহ দলবদ্ধভাবে জলকেলি উৎসবে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, রঙিন কাগজ ও ফুল দিয়ে সাজানো প্যান্ডেলগুলোতে তরুণ-তরুণীরা মঙ্গলজল ছিটিয়ে উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, এই মঙ্গলজল পুরনো বছরের সব দুঃখ, ব্যথা ও গ্লানি দূর করে নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটায়।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনস্থল। জলকেলি উৎসব তারই একটি সুন্দর উদাহরণ। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসব শুরু
সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন


