নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের এক কিংবদন্তির বিদায় ঘটল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও আধুনিক সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন।
শুক্রবার হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। গত বছরের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি।
এবার টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে শেষ করলেন ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
বিদায়ের ঘোষণা দিতে গিয়ে উইলিয়ামসন বলেন, “আমি অবসর নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম।
গত কয়েক দিনে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে এটাই সঠিক সময়। আমি সবসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তীব্র তাগিদ ও ক্ষুধা অনুভব করেছি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা প্রতিটি ম্যাচে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি ভেবে গর্ববোধ করি। এর চেয়ে কিছুটা কম ক্ষুধা নিয়ে খেলা ঠিক হতো না। নিজের মতো করে বিদায় নিতে পেরেছি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।”
শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে উইলিয়ামসনের গুরুত্ব বোঝানো কঠিন। ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক, আর নেতৃত্বে ছিলেন ভদ্রতা, স্থিরতা ও পেশাদারিত্বের অনন্য উদাহরণ। আধুনিক ক্রিকেটের কোলাহলের মাঝেও তিনি নিজের ব্যাটকেই ‘ভাষা’ বানিয়েছেন।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে খেলেছেন ৩৭৮টি ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিউইদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার সংগ্রহ ১৯ হাজার ৩৪৬ রান। করেছেন ৪৮টি সেঞ্চুরি ও ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার অধীনেই নিউজিল্যান্ড খেলেছে ২০১৯ ও ২০২১ সালের দুটি আইসিসি ফাইনাল। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে জিতে দেশের ইতিহাসের প্রথম আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছিল উইলিয়ামসনের দল।
২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হৃদয়ভাঙা রাতের পরও যেভাবে তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন, সেটিই হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। পরাজয়ের মুহূর্তেও কীভাবে মর্যাদা ধরে রাখতে হয়, ক্রিকেট বিশ্বকে তা শিখিয়েছেন তিনি।
ব্যাট হাতে অসংখ্য রান, নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সাফল্য আর মাঠের ভেতরে-বাইরে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। সব মিলিয়ে কেন উইলিয়ামসন শুধু নিউজিল্যান্ডের নন, বিশ্ব ক্রিকেটেরও এক অনন্য উদহারণ।


