গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা।
১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর মেট্রোপোল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির দীর্ঘ ৩১ বছরের সংগ্রাম মুখর সময়ে জাতির বিবেক সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক চেয়ারম্যানের সুযোগ্য সন্তান লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন করে দীর্ঘ ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞের সংগঠন এটি ছাড়া আর দ্বিতীয়টি নেই। নানা ঘাত-প্রতিঘাত এবং অকথ্য নির্যাতনের স্বীকার নির্মূল কমিটিই একমাত্র সংগঠন যারা কোথাও কখনো বিক্রি হয়নি এবং ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে সবসময় সোচ্চার থেকেছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে সব মান অভিমান ভুলে গিয়ে তৃণমূলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতেও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর, বিকেল ৩টায়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, মানবাধিকারের সবক দেয়ার আগে ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিন।
সংবাদ সম্মেলনে ৮ম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এসময় মঞ্চে অন্যদের মধ্যে
স্বাধীনতা সংগ্রামী মানিক চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান রাজনীতিক দীপংকর চৌধুরী কাজল, সংগঠনের জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. আলা উদ্দিন, মোঃ হেলাল উদ্দিন, সদস্য সচিব অলিদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন, রুকসানা পারভীন রুবা, সুমন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন, আবু সাদাত মো. সায়েম, এ.কে.এম জাবেদুল আলম সুমন, সুমন চৌধুরী, হাজী মো. ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার শুভ্র দেব কর, রাজীব চৌধুরী রাজু, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, মুক্তা হাওলাদার, আকবরশাহ্ থানা শাখার আহ্বায়ক সাহাব উদ্দিন (আঙ্গুর), মো. জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী মোঃ সরোয়ারে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, উগ্র মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার তামসিকতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ গড়ে তুলে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর অভিপ্রায়ে আগামী ১৭ ডিসেম্বর রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে বিকেল ৩ টায় সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক-সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবির।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে এতে
বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি,
জননেতা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী,
জননেতা আ.জ.ম নাছির উদ্দিন,
জননেতা এ.টি.এম পেয়ারুল ইসলাম, জননেতা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ, জননেতা মফিজুর রহমান, জাগরণ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড-এর নির্বাহী সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী মোঃ শওকত আলী।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক প্রফেসর ড.আলাউদ্দিন ও সদস্য সচিব অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা থাকবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ও চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মামুন আল মাহাতাব স্বপ্নীল।
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি, দলীয় সংগীত ও নৃত্যে অংশ নেবেন আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী, উর্মে সিং মারমা, সৃজামি ও মাধুরী নৃত্য একাডমির শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে জাগরণ, চট্টগ্রাম জেলা কমিটি ঘোষণা হবে।


