জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “আপনারা মনে করছেন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তৈরি করলে নারীদের প্রতি অবমাননার বিষয়টি ঢাকা পড়ে যাবে—এটা কখনোই হবে না। আপনাদের আসল চরিত্র, স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। আপনারা যদি কখনো ক্ষমতায় আসেন, তাহলে সেই শাসন কতটা ভয়াবহ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও যন্ত্রণাদায়ক হবে—তা গোটা জাতি কল্পনাও করতে চায় না। এতে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে এবং আরেকটি ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ দেখা দেবে।” স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “জামায়াতের আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি সেই সময় মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিশা দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যারা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তারাও নিজেদের লেখা বইয়ে বারবার সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।”
জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “স্বাধীনতার সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী? যখন হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আজ কোন মুখে, কোন উদ্দেশ্যে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন?” তিনি বলেন, “কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।”
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


