সর্বাধুনিক বৈদ্যুতিক ও প্লাগ ইন হাইব্রিড গড়ির কর কিছু দিনের জন্য তুলে দিন,
মির্জি ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: দেশের পরিবহন খাতে দ্রুত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর সাময়িকভাবে কর প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলে ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সাহসী নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন।
তাদের মতে, পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈদ্যুতিক পরিবহনে দ্রুত রূপান্তর সময়ের দাবি। বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি—কার, এসইউভি, বাস, ট্রাক ও ট্রেন—ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে এককালীন কর ছাড় দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহন আমদানির সুযোগ তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ জরুরি—যাতে শুধু উন্নত প্রযুক্তির, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিযুক্ত ও সর্বশেষ সংস্করণের যানবাহনই দেশে প্রবেশ করে; কোনোভাবেই নিম্নমানের বা পুরোনো প্রযুক্তির ইভি ঢুকতে না পারে।
পূর্ণ বৈদ্যুতিক যানবাহন শূন্য কার্বন নিঃসরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় জ্বালানি খরচ কম এবং যান্ত্রিক অংশ কম থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় অঙ্গীকার বা ঘধঃরড়হধষষু উবঃবৎসরহবফ ঈড়হঃৎরনঁঃরড়হং (এনডিসি) বাস্তবায়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের সম্ভাব্য কার্বন নিঃসরণ ৪১৮ দশমিক ৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন টন কমানোর অঙ্গীকার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এনডিসি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়িতে এসেছে নতুন যুগের প্রযুক্তি— সলিড-স্টেট ব্যাটারি এক চার্জে ১০০০ কিমি পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা। আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং ৫ু১৫ মিনিটে ৮০% চার্জ। অও-চালিত স্ব চালিত ব্যবস্থা। স্মার্ট কানেক্টিভিটি ও ঙঞঅ আপডেট।
এই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ঞড়ুড়ঃধ,ঞবংষধ, ইণউ এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। এরি মাঝে পৃথিবীর সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখাতে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করেরছ।
উল্লেখ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণা নতুন নয়। ১৯ শতকের শুরুতেই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের ব্যবহার শুরু হয় এবং ১৮৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সফল বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “কোনো খাতে বিপ্লব আনতে হলে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।” তাই সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, কর ছাড় এবং মানসম্মত প্রযুক্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশ চাইলে দ্রুতই বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটাতে পারে—যা একই সঙ্গে অর্থনীতি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।


