মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর মালামাল পারাপারের জন্য বিকল্প নদী হিসেবে স্বীকৃত প্রায় ৬০ বছরের পুরাতন কার্গো ট্রলিটি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের একমাত্র জীবন জীবিকার উৎস। এখানে দৈনন্দিন শতশত দিনমজুর কাজ করে জীবকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কার্গো ট্রলিটিতে যন্ত্রিক ত্রুটি লেগেই আছে। সর্বশেষ গত ১৮ দিন টানা এই কার্গো ট্রলিটি বন্ধ থাকার ফলে দিনমজুর, মাঝি, ব্যবসায়ী সহ অন্তত কয়েক হাজার মানুষের জীবন থমকে গেছে। কোটি টাকার বাঁশ সহ বিভিন্ন কাঁচামাল কার্গো দিয়ে পারাপার করতে না পারায় এগুলি লেকেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ী, দিন মজুর সহ এই পেশায় নিয়োজিতরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারস্থ কার্গো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির তারা বন্ধ হয়ে আছে কার্গো ট্রলিটি। পাশেই শ্রমিক, দিনমজুর, ব্যবসায়ীরা কার্গো এলাকায় বসে চিন্তিত অবস্থায় দিনযাপন করছে। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন যাপন করছেন।
আলাপকালে কাপ্তাইয়ের বাঁশ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ময়ুর ও মিজানুর রহমান বলেন, পুরাতন এই কার্গো ট্রলিটি এমনিতেই বিগত ১০ বছর যাবৎ ত্রুটিযুক্ত হয়ে আছে। বিগত ৫ আগষ্টের আগে ভারতের মজুমদার ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্গোটি মেরামতের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৫ আগষ্টের পর উধাও যায়। এবং তাদের কাজের মধ্যে অনেক অনিয়ম ধরা পড়ে। পরবর্তীতে পিডিবি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব জনবল দিয়ে কার্গোটির মেরামত করে কোনভাবে চালিয়ে রাখে। কিন্তু গত ১৮ দিন ধরে কার্গো ট্রলিটি সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। তারা একাধিক বার পিডিবি কর্তৃপক্ষকে জানালেও এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বাঁশ ও কাঁচামাল কার্গো দিয়ে পারাপার করতে না পারায় লেকেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
এবিষয়ে কথা হলে অপর কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো মহিউদ্দিন বলেন, কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার পর বিকল্প নদী হিসেবে এই কার্গো প্রণালীটি ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বারবার এই কার্গো ট্রলিটি ত্রুটির কারণে ব্যবসায়ী, দিন মজুর সহ জড়িত সকলকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বারবার পিডিবি কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। সহসা যদি সমাধান পাওয়া না যায় তাহলে এলাকায় মানববন্ধন সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
কার্গো শ্রমিক মোঃ ইউনূছ ও আয়ুব আলী জানান, গত ১৮ দিন ধরে আয় রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ। এতে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এভাবে আয় রোজগার বন্ধ হয়ে থাকলে বেকার হয়ে অনেকেই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়বে। তাই এবিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।
এদিকে, কাপ্তাই কার্গো ট্রলিটির দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারি প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
এবিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান বলেন, কার্গো ট্রলিটি ঠিক আছে, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্যাবলটিতে ত্রুটি রয়েছে। ক্যাবলটি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যথাসম্ভব দ্রুত ক্যাবলটি সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


