ইতিহাসে যেসব ঘটনা প্রবাহ মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ এবং একইসঙ্গে নৈতিক, মানসিক, সামাজিকভাবে উজ্জীবিত রাখতে ভূমিকা রেখেছে তার মধ্যে ১৮৩১ সালের ৬ মে’র ঐতিহাসিক বালাকোট যুদ্ধ এসবের অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।
বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারার মহানগর অফিস চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত ‘বালাকোট দিবস’-এর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
মাওলানা মা’ছুম বলেন, সাড়ে ৫শ বছর ভারত শাসনের পর মুসলিম শাসকদের নৈতিক অধঃপতন শুরু হয়। তাওহীদ, রিসালত, আখিরাত, ইসলামি সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ দেখা দেয়। একইসঙ্গে মুসলিম সমাজে শিরক-বিদআতের বিস্তৃতি ঘটে ব্যাপকভাবে। সঙ্গত কারণেই তখন হিন্দু-মুসলিম পার্থক্য করা একেবারেই সহজসাধ্য ছিল না।
শাসকগোষ্ঠী এতোই ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠেছিলেন যে, ইংরেজরা দেশ দখল করে নিলেও তারা হেরেম থেকে বের হওয়ার ফুরসৎ পেতেন না। সে ধারাবাহিকতায় ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজের পতন এবং ১৭৯৯ সালে টিপু সুলতানকে ইংরেজরা হত্যা করে।
তিনি বলেন, ১৮০৫ সালে ইংরেজরা দিল্লি দখল করে নেয়। এ ষড়যন্ত্রে হিন্দু, শিখ, মারাঠা ও একশ্রেণির দালাল মুসলমান জমিদাররাও জড়িত ছিলেন। মুসলমানদের নৈতিক অধঃপতন, নিজেদের মধ্যে অনৈক্য এবং নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে মুসলমানদের পতন ঘটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন হয়েছে।
মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, বালাকোট যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী না হলেও তা ছিল মুসলিম উম্মাহর প্রেরণার উৎস। তিনি বালাকোটের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনে নিজেদের করণীয় নির্ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বালাকোটের যুদ্ধ ছিল উপমহাদেশের মুসলমানদের আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার এক সংগ্রাম। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেক্ষাপটে বালাকোটের শিক্ষা এখনো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি।
তিনি বালাকোটের প্রেরণা ও জুলাই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার।


