প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের বিএসএস (অনার্স) ৪১তম ব্যাচের ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম (স্প্রিং ২০২৬ সেশন) অনুষ্ঠিত হয় ৩০ মার্চ (সোমবার)।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী। বিভাগের কো-অর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক বদরুল হাসান আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব বিদ্যুৎ কান্তি নাথ, কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য-সচিব ও সহকারী অধ্যাপক জনাব উম্মে সালমা এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব ইয়াকুব আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উক্ত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অর্পিতা দত্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, অর্থনীতি একটি প্রাচীন ও মৌলিক বিষয়। বলা হয়ে থাকে, এই অর্থনীতির ডিসিপ্লিন হলো মাদার ডিসিপ্লিন। সুতরাং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগে তোমরা অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হয়ে ভালো কাজ করেছো। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কলেজের পরিবেশ থেকে ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, শিখতে পারে। এখানে সুনির্দিষ্ট কারিকুলাম থাকলেও পড়ালেখার কোনো সীমারেখা নেই। এখানে বহুবিধ জ্ঞান অর্জন করা যায়। তোমরা ৪১তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা যদি সঠিক ও যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারো, তবে ভবিষ্যতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।
তিনি অর্থনীতির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নবাগত শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তুমি যে-বিষয়টা পড়বে, প্রথমত সেটা যেন তোমাকে সমৃদ্ধ করে। তারপর সেটা তোমার মাধ্যমে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজকে যেন সমৃদ্ধ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির স্নাতক পর্যায়ের পাঁচটি একাডেমিক প্রোগ্রাম বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল থেকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করেছে। এই প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে বিএসএস (অনার্স) ইন ইকোনোমিক্স অন্যতম। বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে এই প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রেখে ডিগ্রি অর্জনের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মিশন ও ভিশন সফল করতে হবে।
সহকারী ডিন জনাব ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালে অর্থনীতি বিভাগ ৮জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করে পরিপূর্ণ বিভাগে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ ও মোকাবিলা করার জন্য তোমাদেরকে এই বিভাগে উত্তমভাবে পড়াশুনা করে প্রস্তুত হতে হবে।
প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোড অব কন্ডাক্ট এবং তা অনুসরণ করার গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেন।
সহযোগী অধ্যাপক জনাব বিদ্যুৎ কান্তি নাথ তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, প্রত্যেক সমাপ্তির একটা নবসূচনা থাকে। নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক-শিক্ষার পরে বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের সূচনা তার একটি উদাহরণ।
কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য-সচিব জনাব উম্মে সালমা তাঁর বক্তব্যে নবীনদের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে একটি সুন্দর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ইভটিজিং এন্ড সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ইস্যুতে সচেতন থাকতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি জেন্ডার ইক্যুয়ালিটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইভটিজিং এন্ড সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইয়াকুব আলী নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগের কার্যপরিধি এবং গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এই আয়োজনে বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক জনাব সুদীপ দে একাডেমিক রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশন এবং বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান ক্লাব অ্যাক্টিভিটিস সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
অর্থনীতি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক বদরুল হাসান আউয়াল তাঁর সমাপনি বক্তব্যে নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরার পাশাপাশি, নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন সামাজিক এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। এই আয়োজনে ৪১তম ব্যাচের সকল নবীন শিক্ষার্থী এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া হোসেন বর্ষা ও প্রভাষক ইফতেখার মিয়াসহ বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।


