শফিউল আলম, রাউজান:
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী-এ কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ার পর শুরু হয়েছে ডিম সংগ্রহ ও রেনু উৎপাদনের কার্যক্রম। ডিম সংগ্রহকারীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ডিম ফুটিয়ে রেনু তৈরির কাজে।
গত ২৯ এপ্রিল বুধবার রাত এবং ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিন ও দিবাগত রাতে জোয়ারের সময়ে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এ মৌসুমে এটিই প্রথম ডিম ছাড়ার ঘটনা। খবর পেয়ে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার দুই পাড়ের শত শত সংগ্রাহক জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন।
মাছুয়া ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রাহক শফিউল আলম জানান, ৩০ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা এবং রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত জোয়ারের সময় ডিম সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব ডিম মাছুয়া ঘোনা সরকারি হ্যাচারির কুয়ায় সংরক্ষণ করে রেনু ফুটানোর কাজ চলছে। সাধারণত চার দিনের মধ্যে ডিম থেকে রেনু উৎপন্ন হয়।
রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন ফাহিম জানান, রাউজান ও হাটহাজারী অংশে প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ডিম হাটহাজারীর মাছুয়া ঘোনা, শাহ মাদারী, মদুনাঘাট এবং রাউজানের গহিরা মোবারকখীল এলাকার চারটি সরকারি হ্যাচারি ও পশ্চিম বিনাজুরীর একটি বেসরকারি হ্যাচারিসহ মোট পাঁচটি হ্যাচারিতে ফুটানো হচ্ছে।
এছাড়া নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়াতেও বিভিন্ন স্থানে ডিম ফুটানোর কাজ চলছে। ডিম ছাড়ার স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রাউজানের আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, মগদাই, কাসেমনগর, কাগতিয়া, পশ্চিম বিনাজুরী, সিপাহির ঘাট, অংকুরী ঘোনা, দক্ষিণ গহিরা এবং হাটহাজারীর মদুনাঘাট, কুমারখালী, শাহ মাদারী, মাছুয়া ঘোনা, আমতোয়া ও গড়দুয়ারা এলাকা।
ডিম থেকে রেনু উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালামা বেগম, হালদা মৎস্য প্রজনন রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত মৌসুমে ২৯ মে মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের শুরুতেই ডিম ছাড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর মোট ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী আমাবস্যার তিথিতে অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আবারও বড় পরিসরে ডিম ছাড়বে মা মাছ।
চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারে মা মাছ ডিম ছেড়েছে। অনুরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আমাবস্যাতেও ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


