শুক্রবার আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক ও মোহামেডান তিন ক্লাবই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শেষ রাউন্ডে মাঠে নেমেছিল। তিন দলের তিন রকম সমীকরণ ছিল শিরোপা জেতার ক্ষেত্রে।
মোহামেডান তাদের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে ঠিকঠাক। তবে এই ক্ষেত্রে বৃষ্টি বড় ভূমিকা রেখেছে।
সমীকরণ অনুযায়ী আবাহনীকে হারাতে হতো মোহামেডানকে। আর প্রাইম ব্যাংককে হারতে হতো।
বৃষ্টি আইনে দুটি ম্যাচের ফলাফলই মোহামেডানের পক্ষে গেছে।
এদিন বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে রানের পাহাড় গড়ে মোহামেডান।
শুক্রবার শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে বিজয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্যাট হাতে। তার সঙ্গে ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুই ব্যাটার মিলে আবাহনীর বোলিং আক্রমণকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন। বিজয়-ইমন মিলে ২৪৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের এই ইনিংসের পর আফিফ হোসেন ও আনিসুল ইসলামও প্রায় দুইশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেন। আফিফ ৩৩ বলে ৬১ এবং আনিসুল ১৬ বলে ৩০ রান করেন। মোহামেডানের ব্যাটারদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে আবাহনী ৪০৭ রানের লক্ষ্য পায়।
১১৫ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন বিজয়। এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরির হিসেবে তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এনামুল হক বিজয়ের পাশাপাশি সেঞ্চুরি পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ১১৬ বলে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় খেলেছেন ১৫০ রানের ইনিংস। তার স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর কাছাকাছি।
কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে আবাহনী ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান তুলতেই বৃষ্টি নামে। জেতার লক্ষ্যের বিপরীতে আবাহনীর রান তোলার গতি ছিল ধীর। বৃষ্টি কমার পর মাঠ খেলার উপযুক্ত না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে মোহামেডানকে ৬৩ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনকে হারিয়ে ব্যাটিংয়ে কিছুটা শক্তি হারায় আবাহনী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রান আসে ওপেনার অনীক সরকারের ব্যাট থেকে।
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের পাশাপাশি পাশের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে ছিল প্রাইম ব্যাংকও। শিরোপা জিততে হলে ঢাকা লেপার্ডসকে হারাতে হতো প্রাইম ব্যাংককে। তখন মোহামেডান জিতলেও কোনো লাভ হতো না। সেই সমীকরণ অবশ্য মেলেনি। বৃষ্টি আইনে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে ৯ রানে হেরেছে প্রাইম ব্যাংক।
আগে ব্যাটিং করে প্রাইম ব্যাংক ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রান করে। আজিজুল হাকিম তামিম সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া রায়হান রাফসান ৫৭ ও আকবর আলী ৫১ রানের ইনিংস খেলেন।
২৬৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঢাকা লেপার্ডস কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকে। বৃষ্টি নামার আগে ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান তুলে ফেলে তারা। বৃষ্টি আইনে রান তোলার গতিতে এগিয়ে ছিল লেপার্ডস। সেই কারণেই ৯ রানের জয় পায় তারা। এই জয়ে লেপার্ডসের কোনো অর্জন না হলেও মোহামেডান ১৭ বছরের আক্ষেপ দূর করেছে।


