শফিউল শামু
এসেছে বৈশাখ, নবভোরের আলোয় ভরে ওঠে পৃথিবী,
বাতাসে ভাসে নতুনের আগমনী সৌরভ, উচ্ছাসে ভাসে প্রকৃতি।
বৈশাখ আসে জারুলের চূড়ায়, বৈশাখ হাসে কৃষ্ণচূড়ায়,
হিজলের ঘ্রাণে বৈশাখ ছড়ায় – এ পাড়ায়, ও পাড়ায়।
বৈশাখ আসে কাঁঠালী ঘ্রাণে, বৈশাখ হাসে আমের মুকুলে,
বৈশাখ আসে কামরাঙার হলুদে, বৈশাখ নাচে চালতার ফুলে।
বৈশাখ দেখি মায়ের দুলে, বৈশাখ খেলে মায়ের আঁচলায়,
বৈশাখ খুঁজি পান্তা ভাত আর মায়ের হাতের পুলি পিঠায়।
বৈশাখ নেমে আসে গাঁয়ের বাজারে, বৈশাখ মানে হালখাতা,
বৈশাখ মানে সন্দেশ মিঠাই, বৈশাখে সব মাতোয়ারা।
শহরেও নামে বৈশাখ, ঝলমলে, কল্লোলে,
বৈশাখ নামে রমনায়, বৈশাখ বাজে শিশুর হিল্লোলে।
তরুণের পাঞ্জাবি, তরুণীর শাড়ি, রঙ ছড়ায় বৈশাখী দুপুরে,
কবির কবিতায় নামে বৈশাখ, বৈশাখ বাজে কিশোরীর নুপুরে।
বৈশাখ আসে লালদিঘীর মেলাতে, বৈশাখ আসে ডিসি হিলে,
বৈশাখ নাচে রঙিন হাত পাখায়, বৈশাখ পাই মন্ডা মিঠাই তিলে।
আমাদের বৈশাখ, আবেগে জড়ায়, আমাদের বৈশাখ, নিজেকে চেনায়,
আমাদের বৈশাখ স্মৃতির ঝুড়ি, স্বত্ত্বা আঁকে মনের আঙিনায়।
বৈশাখ হোক নব সূচনার, বয়ে আনুক সুখ শান্তি,
অতীতের ভুল মুছে যাক সব, ধুয়ে যাক জরা ক্লান্তি।
বৈশাখী হাওয়া মঙ্গল আনুক, না আনুক যেন প্রলয়,
প্রকৃতির সাথে মানুষের হোক, চির শাশ্বত প্রণয়।


