বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত দু শ্রমিক আটক এক লাখ টাকা জরিমানা আদায়
শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদী থেকে রাতের অন্ধকারে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বাল্কহেড (নৌযান) ভর্তি করার সংবাদ পেয়ে। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালনা করা হয় অভিযান। এ সময় দুজনকে হাতেনাতে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার সময়ে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর মোহনা রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের গণি মিয়ার ঘাটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।যে দুজনকে জরিমানা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মুহাম্মদ ইউসুফ ও মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। দুজনের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলায়। তাঁরা শ্রমিক হিসেবে বালু তোলায় নিয়োজিত ছিলেন। অভিযানে বালু তোলার ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।অভিযানে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ, উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন হালদা নদী থেকে বালু তোলা এবং ড্রেজার ও বাল্কহেডে পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে। গতকাল দুজনকে জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, হালদা নদী দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র। চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস, এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে পযন্ত সময়ে হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। হালদার মা ,মাছ প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় হালদা নদীতে নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট তহালদা নদীর মোহনা ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ নদীতে মাছ শিকার বন্দ্ব ঘোষনা করেন মৎস মন্ত্রনালয় । একই সাথে হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব ঘোষনা করা হয় । সরকারী নির্দেশ অমান্য করে হালদা নদীর মোহনা থেকে রাউজানের কচুখাইন, গনি মিয়ার হাট, মোকামী পাড়া, দেওয়ানজী ঘাট, সার্কদা, হালদার চর, ছায়ার চর, নগরীর মোহরা সহ রাউজান হাটহাজারী এলাকার হালদা নদীর বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিন রাতের অন্দ্বকারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, চর থেকে মাটি খনন করে যান্ত্রিক নৌযান ভর্তি করে হালদা নদী দিয়ে পরিবহন করে হালদা নদীর তীরে মোকামী পাড়ার এ আলী ইট ভাটায়, উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া, আজমীর ব্রীকস ইট ভাটায় ও পশ্চিম আবুর খীল শান্তি ব্রীকস ইট ভাটায় ইট তৈয়ারীর জন্য নিয়ে যায়। হালদা নদীর উত্তোলন করা বালু যান্ত্রিক নৌযান ভর্তি কওে নদী দিয়ে পরিবহন করে কালুর ঘাট ও রাউজান হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় স্তুপ করে রাখা হয় । এসব স্তুপ থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা হালদা নদীর বালু বিক্রয় করে। হালদা নদীর চর কাটা, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এর সাথে জড়িতরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় হালদা নদীর বালু খোকোদের বিরুদ্বে প্রশাসন অভিযানে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকেন সব সময়ে। বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদ্রে ধরলে ও মুল হোতারা নৈপথ্যে থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেয় । যান্ত্রিক নৌযান চলাচল ও বালু তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ও বালু পরিবহনে নিয়োজিত নৌযানের পাখার আঘাতে নদীতে প্রায় সময় মা মাছ ও ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।


