খাগড়াছড়িতে জ্বালানি তেল সংগ্রহে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখনও কমেনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রির কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল ১০টার দিকে মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের। দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনটি থেকে শুরু হয়ে বাস টার্মিনাল হয়ে শান্তিনগর সড়ক পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রি করায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে, ফলে এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
হ্ললাপ্রু চৌধুরী নামে একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তেল সংকট ও বিক্রির সময় নির্ধারণের কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও ভাড়ায় চালিত যানবাহনের চালকদের আয়েও এর প্রভাব পড়ছে।
ঋষি বড়ুয়া বলেন, শহরের সবগুলো পেট্রোল পাম্প একসাথে জ্বালানি বিক্রি করলে এমন লম্বা লাইন তৈরি হতো না। লাইনের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকঘণ্টা বিক্রি করার কারণে পরে আসলে তেল পাওয়া যায় না। একসাথে বহু গাড়ি আসলে শেষের দিকে অনেকেই তেল ছাড়াই চলে যেতে হচ্ছে। এ কারণে অনেকের সময় নষ্ট হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নীতি ভূষণ চাকমা বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত আকারে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রশাসনের নাগালের মধ্যে রাখতেই নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ভোগান্তি কমে আসবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল পেট্রোল পাম্পটিতে সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছে। জরুরি সেবার জন্য ৫শ লিটার গতকাল রাতে বিক্রি করা হয়েছে। অবশিষ্ট অকটেন আজ বিক্রি করা হবে জানিয়েছেন নীতি ভূষণ চাকমা।
এছাড়াও উপজেলাগুলোতে জ্বালানি তেল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালীদের ভিড়ে সাধারণ মানুষ তেল সংগ্রহে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে জ্বালানি তেল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কৃষক। কৃষি কার্ড থাকলে তবেই মিলে তেল। সকল কৃষকের কৃষি কার্ড না থাকাতেই সৃষ্টি হচ্ছে সমস্যা।


