ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘আঞ্চলিক বিরোধ’ বলে আখ্যায়িত করলেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস। ইউক্রেনের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডিস্যান্টিস ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকার দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। দলটি থেকে মনোনয়ন চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প এতদিন যেসব কথা বলে আসছিলেন, রন ডিস্যান্টিসও এখন সেই একই কথারই পুনরাবৃত্তি করছেন।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও দল থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ডিস্যান্টিসও। ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একশ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে দেশটিতে। এ নিয়ে দেশটির নাগরিকদের বড় একটি অংশ ক্ষুব্ধ। ফলে নাগরিকদের ইউক্রেনবিরোধী মনোভাবকে ভোটের কাজে লাগাতে চাইছে রিপাবলিকান পার্টি।
এরই ধারাবাহিকতায় ডিস্যান্টিস ইউক্রেন যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি আমাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ হতে পারে না। ইউরোপীয় দেশের সীমানা রক্ষা করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশ্যক কিছু নয়। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও ভাবা উচিত। এছাড়া তিনি রিপাবলিকান নেতাদের ইউক্রেন ইস্যুতে বেশি নাক গলানোর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সংঘর্ষে কোনো স্বার্থ ছাড়াই গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ রিপাবলিকান নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রয়েছে। যেমন দেশের সীমানা সুরক্ষা, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ সংকট মোকাবেলা, শক্তি নিরাপত্তা এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ডিস্যান্টিস আরও বলেন, বাইডেন প্রশাসনের উদ্দেশ্য এই সংঘাতে ইউক্রেনকে ব্ল্যাংক চেক দিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা। যেখানে নেই কোনো স্বার্থ কিংবা কারও কাছে জবাবদিহিতা। এটা কতদিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত নয়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব আচরণের কারণে রাশিয়া ও চীন দিন দিন নিজের বন্ধুত্ব শক্তিশালী করছে। চীন বিশ্বের কাছে মস্কোর চেয়েও বড় হুমকি।
রিপাবলিকান দলের নেতা ও সমর্থকরা ইউক্রেনকে একতরফা সমর্থন দিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে তাদের মনোভাব আরও জোরালো হচ্ছে। যদিও ডিস্যান্টিস নিজে এই প্রথম এত স্পষ্ট ভাবে ইউক্রেনকে সহায়তার বিরোধিতা করলেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান দিকই হচ্ছে ইউক্রেনকে সহায়তা বৃদ্ধি করে যাওয়া। গত এক বছরে মার্কিন কংগ্রেস ইউক্রেনকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে।


